খবর প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৯ এএম

২০ জানুয়ারি ২০২৩। দিনটি সত্যিকার অর্থেই আরব্য রজনীর রূপকথা হয়ে থাকল। সৌদি আরবের ফুটবল রূপকথা। একটা ফুটবল ম্যাচে যা যা ঘটতে পারে, তার প্রায় সবই ঘটেছে রিয়াদের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রিয়াদ অল স্টার একাদশ বনাম পিএসজির মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে। দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে-সময়ের সেরা চার ফুটবলারের একযোগে মাঠে নামা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, মুহুর্মুহু আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ, এক এক করে ৯টি গোল, পেনাল্টি, লালকার্ড, ধাক্কাধাক্কি-কী ঘটেনি ম্যাচটিতে! পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়ানো ৯ গোলের প্রীতি ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ৫-৪ গোলে জয়ী হয়েছে মেসি-এমবাপ্পেদের পিএসজি। তবে সত্যিকার জয়টা হয়েছে সৌদি আরবের ফুটবলের। মেসি-রোনালদোর ম্যাচ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ম্যাচটিতে অবশ্য ব্যক্তিগত দ্বৈরথে জয়টা রোনালদোরই হয়েছে। পর্তুগিজ তারকা করেছেন ২ গোল, মেসি করেছেন ১ টি। ১টি করে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, সার্জিও রামোস এবং মারকুইনহোসও। পোড়া কপাল কেবল নেইমারের, গোল তো পান নি, উল্টো ব্রাজিল তারকাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপে পুড়ে! মেসি, এমবাপ্পে, নেইমার, আশরাফ হাকিমি, রামোস, মারকুইনহোস, নাভাস-সৌদি আরবের দর্শকদের মন জয় করতে পিএসজির সেরা তারকাদের সবাই ছিলেন শুরুর একাদশে। প্রতিপক্ষ রিয়াদ অল স্টার দলে রোনালদো এবং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করা সালেম আল দোসারিরা তো ছিলেনই।
বাড়তি আকর্ষণ হয়ে রিয়াদের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। ম্যাচের শুরুতেই ‘শাহেনশাহ’ খ্যাত অমিতাভ বচ্চনকে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ম্যাচ শুরু হলে বোঝারই উপায় ছিল না, এটা প্রীতি ম্যাচ! বরং মেসি-রোনালদোদের মিলনমেলার ম্যাচটি দ্রুতই রূপ নেয় টান টান উত্তেজনাকর লড়াইয়ে। ম্যাচের শুরুতেই মেসির পা থেকে বল কেড়ে নেন অল স্টার দলের অধিনায়ক রোনালদো! মেসি তার জবাব দেন গোল করে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই অতিথি দল পিএসজিকে এগিয়ে দেন মেসি। নেইমারের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি। মেসির এই গোল রোনালদোই শোধ করেন। ৩৪ মিনিটে নিজেই পেনাল্টি আদায় করে তা থেকে অল স্টারকে সমতায় ফেরান তিনি। ৪৩ মিনিটে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকুইনহোস।
বিরতির আগে পিএসজি গোল করতে পারত আরো একটি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করেন নেইমার। তার শটটি রুখে দেন অল স্টারের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে রোনালদোই আবার সমতায় ফেরান অল স্টারকে। ৫৩ মিনিটে আবার পিএসজিকে এগিয়ে দেন রামোস। ৫৬ মিনিটে রিয়াদ অল স্টারকে সমতায় ফেরান জং হিউং। ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৪-৩ করেন এমবাপ্পে। এরপরই ম্যাচ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। ৬১ মিনিটে মাঠ থেকে উঠে যান রোনালদো। পরের মিনিটেই মাঠ ছাড়েন মেসি, এমবাপ্পে, নেইমার, রামোস, নাভাস, হাকিমিরা। তবে তারকা শূন্য হলে মাঠের খেলায় রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে ঠিকই। বাকি সময়ে দুই দল একটি করে গোলও করেছে। দল হারলেও ম্যাচসেরার পুরস্কারটি পেয়েছেন রোনালদোই। দুই গোল করে ম্যাচসেরা, সৌদিতে পর্তুগিজ তারকার অভিষেকটা রঙিনই হলো।