NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

হংকং চীনের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকবে: চীন বিশ্বের ভবিষ্যত হবে


মশিউর আনন্দ প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

হংকং চীনের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকবে: চীন বিশ্বের ভবিষ্যত হবে

 

নিউইয়র্ক বাংলা ডেস্ক: হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল মাতৃভূমির কোলে ফিরে আসার ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতে চলেছে। হংকং-এর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি বিদেশি সেখানে ভ্রমণ করা, কাজ করা এবং বসবাস করা শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হংকংয়ে আসার পর, তাদের আসল জাতীয়তা ত্যাগ করেছে এবং চীনা নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে এবং হংকং কখনও ত্যাগ করেনি।হংকংয়ের ল্যান কোয়াই ফং গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যালান জেমান তাদের মধ্যে একজন। আজকের ল্যান কোয়াই ফং হংকংয়ের আইকনিক চেক-ইনগুলির মধ্যে একটি। এর সাফল্য অ্যালান জেমানের থেকে অবিচ্ছেদ্য, যিনি ১৯ বছর বয়সে হংকংয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। অ্যালান জেমান ১৯৪৮ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মায়ের সঙ্গে কানাডায় যান। অ্যালেন জেমান যখন ছোট ছিলেন তখন তার ব্যবসায়িক দক্ষতা দেখা যায়। ১৯ বছর বয়সে তার পোশাক কোম্পানি তাকে ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার জন্য হংকং পাঠায়। তিনিই প্রথম এই অপরিচিত জায়গায় পা রাখেন। তিনি বলেন, “তখন হংকং আমার জন্য চাঁদের মতো ছিল অজানা একটি জায়গা। কারণ আমি কানাডায় থাকতাম এবং অনেক লোকই জানত না যে- সেই সময়ে হংকং কোথায়! কিন্তু যখন আমি প্রথম হংকংয়ে আসি, তখন এটি আমার মনের গভীর ছাপ ফেলে।”

 

 

১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে, ১৯ বছর বয়সী অ্যালান জেমান  প্রথমবার হংকংয়ে আসেন। সুযোগ এবং স্বপ্নে পূর্ণ এই জায়গায় এই তরুণ বিদেশিকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে এবং তিনি কানাডায় তার চাকরি থেকে পদত্যাগ করে হংকংয়ে আসেন। তিনি বলেন, “সেই সময়ে হংকংয়ে কম করের হার এবং প্রচুর কারখানা ছিল। হংকংয়ে আসা ক্রেতারা অন্য দেশে অর্ডার দিলেও হংকংয়ে তাদের সদর দফতর করতে চায়। তাই আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমি হংকংয়ে কাজ করতে পারি। কিন্তু আমি যখন প্রথম হংকংয়ে আসি, তখন এখানে প্রচুর ব্রিটিশ লোক ছিল এবং তাদের উচ্চারণ এত ভারী যে তারা যে ইংরেজিতে কথা বলেছে তা বোঝাই ছিল আমার জন্য কঠিন। তবে, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে, আমি হংকংয়ের প্রাণবন্ত পরিবেশ পছন্দ করি। তাই আমি এখানে ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেই।”

১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে, হংকংয়ে সুযোগ খুঁজে পাওয়ার বিদেশি আরও বেশি, অ্যালান জেমান আবিষ্কার করেন যে সেন্ট্রাল হংকং-এ বিশ্রাম নেওয়ার ও ব্যবসা নিয়ে কথা বলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই তিনি ল্যান কোয়াই ফং-এ একটি ‘বার+রেস্টুরেন্ট’ ব্যবসা শুরু করেন। তারপর থেকে তিনি আগ্রহের সঙ্গে ব্যবসার সুযোগ চিন্তাভাবনা করেন এবং ল্যান কোয়াই ফংকে একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। পরে তিনি ‘ল্যান কোয়াই ফং’ ব্র্যান্ডটি এখানে নিয়ে আসেন এবং তা ‘ল্যান কোয়াই ফংয়ের পিতা’ নামেও পরিচিত। এখন হংকংয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন, তিনি ইতোমধ্যেই হংকংয়ের সাথে গভীর প্রেমে পড়েছেন এবং এখানকার সবকিছু তাকে মুগ্ধ করেছে। হংকংয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে অ্যালান জেমান বলেন,“হংকং একটি সুন্দর শহর। বিভিন্ন জায়গায় সবুজ আছে, বন্দর আছে, ভাল আবহাওয়া এবং এটি একটি বাণিজ্যিক শহর। এটি অনেক নিরাপদ, যা আজ বিশ্বে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি হংকং সবসময় এমনই থাকবে। ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলি প্রাচ্যের দিকে তাদের মনোযোগ দেবে এবং প্রাচ্যই ভবিষ্যত। হংকং পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংযোগকারীর মতো। এটি অব্যাহত থাকবে। আমি চীনে যে পরিবর্তনগুলি ঘটেছে তার প্রশংসা করি, এবং আপনি যদি চীনে থাকেন তবে আপনার ভবিষ্যত খুব, খুব শক্তিশালী হবে। এটিই হলো আমার এখানে থাকার কারণ।”২০০৮ সালে অ্যালান জেমান তার জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কানাডিয়ান নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন এবং চীনা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। তিনি চীনের হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের পাসপোর্ট লাভ করেন। তিনি খুবই খুশি। তিনি বলেন,“আমি জানি আমার একটি পশ্চিমা মুখ আছে, কিন্তু আমার হৃদয় আসলে একটি চীনা হৃদয়। ২০০৮ সালে আমি চীনা নাগরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই, কারণ আমি নিজের চোখে দেখেছি যে গত বছরগুলিতে এখানে মানুষের জীবন আরও ভালো হচ্ছে। হংকং আমার বাড়ি, আমরা এখানে থাকি। আমার ছেলে একজন চীনা মেয়েকে বিয়ে করেছে এবং তারা ও তাদের বাচ্চারা ম্যান্ডারিন, ক্যান্টনিজ এবং ইংরেজিতে কথা বলে। তাই আমরা হংকংয়ের একটি অংশ। আমি চাইনিজ হতে চাই। আমি এখানে এতদিন ধরে আছি, আমার মনে হয় হংকং ছাড়া আমার অন্য বাড়ি নেই। হংকং আমার বাসস্থান।”

অ্যালান জেমান ২৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের অনন্য আকর্ষণ এবং এর অনন্য সুবিধাগুলিও প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি পূর্ব থেকে বিশ্বকে একটি আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন,“কুয়াংতুং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়া- যেখানে হংকং অবস্থিত, বিশ্বের একটি খুব শক্তিশালী জায়গা হবে। চীনের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। এটা বলা যেতে পারে যে বিশ্বের সেরা ভোক্তা বাজার। তাই আমি বলতে চাই যে বিদেশি বন্ধুদের হংকং এবং চীনের অন্যান্য জায়গায় আসা উচিত। এটি আপনার জন্য নতুন একটি বড় বিশ্ব খোলা হবে।”ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে, অ্যালান জেমান আশা করেন যে,  হংকং তার নিজস্ব সুবিধার ভালো ব্যবহার করবে, কুয়াংতুং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়াতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত হবে এবং দেশের সাথেএকযোগে উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে।তিনি বলেন,“আমি বিশ্বাস করি আগামী ২৫ বছর চীনের হংকং, এবং চীনের জন্য আরও শক্তিশালী ২৫ বছর হবে। হংকং চীনের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকবে। মাতৃভূমিতে ফিরে আসার পর থেকে ২৫ বছর একটি সমৃদ্ধ ফলপ্রসূ সময়। আগামী ২৫ বছরে হংকংয়ের প্রত্যেকের জীবন আরও ভাল হবে। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে- চীনের ভবিষ্যত আরও সুন্দর হবে। আমি বিশ্বাস করি যে চীনও বিশ্বের ভবিষ্যত হবে।”