NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

অপরুপ সৌন্দর্যের শত বছরের রংপুরের জমিদার বাড়ি


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

অপরুপ সৌন্দর্যের শত বছরের রংপুরের জমিদার বাড়ি

এম আব্দুর রাজ্জাক, উত্তরবঙ্গ থেকে :

 

 

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষ ভ্রমণ পিপাসু। একটু সুযোগ পেলেই বাঙালীরা ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। আমাদের আশেপাশে বেড়ানোর জন্য দর্শনীয় অনেক স্থান রয়েছে! তেমনই রংপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজহাট জমিদার বাড়ি। চাইলে ঐতিহ্যবাহী এ স্থান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর রংপুরের তাজহাটে অবস্থিত একটি তাজহাট জমিদার ঐতিহাসিক প্রাসাদ যা বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রংপুরের পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান।এটি তাজহাট রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। রংপুর শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে তাজহাট জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এ প্রাসাদের একটি অংশকে রংপুর জাদুঘর করা হয়েছে।

পটভূমি

 

 তাজহাট জমিদার মূলতঃ গোবিন্দ লালের পুত্র গোপাল লাল  এর সাথে সর্ম্পকযুক্ত যা স্থানীয়ভাবে তাজহাট জমিদার নামে পরিচিত।এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মান্নানলাল রায়।তিনি  সুদূর পাঞ্চাব হতে রংপুরের বিশিষ্ট সমৃদ্ধ স্থান মাহিগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসা করার জন্য এসেছিলেন।প্রাচীন রঙ্গপুরের ইতিহাস  পুস্তক থেকে জানা যায় যে, মান্নানলাল রায় রঙ্গপুরের মাহিগঞ্জে এসেছিলেন হীরা, জহরত ও স্বর্ণ ব্যবসার জন্য। প্রথমে তিনি নানা ধরণের নামী দামী হীরা, মানিক জহরতখচিত তাজ বা টুপির ব্যবসা করেছিলেন ।উক্ত তাজ বিক্রির  লক্ষে এখানে হাট বসে যা পরবর্তীতে বিরাট প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং এ তাজহাটকে কেন্দ্র করে এই জমিদারবাড়ীর নামকরণ করা হয় তাজহাট জমিদার বাড়ি।

 

ইতিহাস

১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রাসাদটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলে সে সময় থেকে প্রাসাদটি রক্ষণের কাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে প্রাসাদের কিছু অংশে জাদুঘর তৈরির প্রস্তাবনা পাশ হয় এবং ২০০৫ সালে তা বাস্তবায়ন করা হয়।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর এই পদ্ধতি তুলে দেয়া হয়। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাসাদটিকে একটি সংরক্ষিত স্থাপনা তথা স্থাপত্য হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার এ স্থাপত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করতঃ ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে রংপুর জাদুঘরকে স্থানান্তর করে এ প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসে।

সৌন্দর্য

তাজহাট জমিদার বাড়িটির  উত্তর দক্ষিনের প্রকোষ্ঠটির পূর্ব ও পশ্চিমের অংশের পরিমাপ ১২৩ফিট*১২০ফিট লম্বা। দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে তন্মধ্যে মধ্যের অভিগমন পথটি অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত। সবকটি অভিগমন পথের প্রতিটি ধাপ সুন্দরমসৃণ সাদা ও ছাই রংয়ের পাথর দ্বারা মোড়ানো। বারান্দাটির সম্পূর্ণ মেঝে  অনুরূপ পাথরে মোড়ানো প্রথম তলার ছাদ নির্মাণে বড় বড় লোহার বীম ও লোহার ফালি ব্যবহার করা হয়েছে।প্রধান এক তলার বা গ্রাউন্ড ফ্লোরের অংশটিতে ৪টি কক্ষ দেখা যায় এবং এতে সর্বমোট ১১ জোড়া কপাট বিশিষ্ট  দরজা দেখা যায় যা এ প্রাসাদের প্রকোষ্ঠগুলোতেও অনুরূপভাবে পূর্বেও অংশে ৭টি প্রবেশ দ্বারা সমন্বিত ৩টি বড় বড় কক্ষ  এবং পশ্চিম অংশে জোড়া কপাট বিশিষ্ট দরজাসহ বিরাট হলরুম রয়েছে । এ অংশের প্রায় মধ্যভাগে একটি প্রবেশ ও বর্হিপথ রয়েছে।প্রধান ইমারতের উত্তর অংশের মাঝামাঝি ২য় তলায় ওঠানামার জন্য সুন্দর কাঠের তৈরি ২২টি ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ি দেখা যায় এবং দক্ষিনের প্রাসাদের প্রকোষ্ঠটিতেও ২য় তলায় ওঠানামার জন্য লৌহ নির্মিত নকশাকৃত ঝুলন্ত মজবুত সিঁড়ি রয়েছে । সিঁড়িগুলোর রেলিং সুন্দর লৌহ নির্মিত ফুলগাছের মতো দেখা যায়।সম্মুখস্থ প্রধান প্রাসাদটির ২য় তলায় ওঠানামার জন্য একটি বিরাট গ্যালারির মতো সিঁড়ি রয়েছে । সিঁড়িটিকে তিনটি স্তরে বিভক্ত দেখা যায়। প্রথম স্তরে ১টি ধাপ বিরাজমান, ২য় স্তরে ওঠার সময় একটু সমান অবস্থান নেমে আবার ১৪টি ধাপ অতিক্রম করে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন  আয়তাকার প্লাটফরমে ওঠা যায়, যা দ্বিতীয় তলার ছাদের সাথে সম্পৃক্ত ,যাকে ৩য় স্তর হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে।এ বৃহদাকার সিঁড়িটির পরিমাপ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬ফিট* ৩৩ফিটএবং প্রশস্ত উপরের দিকে ৪৯ফিট  এবং ক্রমান্বয়ে পরিমাপ কমিয়ে তা ৩৩ফিট পর্যন্ত  প্রশস্ত রাখা হয়েছে। সিঁড়িটি ভূমি থেকে দ্বিতীয় ভবনের ছাদ পর্যন্তসম্পূর্ণ অংশ সুন্দর মসৃন সাদা - কালো পাথরে মোড়ানো  এবং সম্পূর্ণ  অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। মার্বেল সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই জাদুঘর। সেখানে রয়েছে রাজা-বাদশাদের ব্যবহৃত অনেক নিদর্শন। বোন মরিয়মকে দেওয়া বেগম রোকেয়ার চিঠি। এ ছাড়াও রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফ, সম্রাট আওরঙ্গজেবের খুৎবা, বিখ্যাত কবি শেখ সাদির ফরাসি কবিতা, পোড়ামাটির ফলকসহ অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন।

 

গঠনশৈলী

প্রাসাদটি প্রায় ২১০ ফুটের মত প্রশস্ত ও চার তলার সমান উঁচু। এর গঠনশৈলী প্রাচীন মুঘল স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হয় যার প্রমাণ মেলে মধ্যভাগে বিশাল একটি গম্বুজ ও দুই পাশে তার ছড়িয়ে যাওয়া দালানগুলোর একটা মসজিদের অবয়ব থেকে। তবে রাজবাড়ী যেই দিক থেকে বাংলাদেশের অন্য সকল প্রাসাদের থেকে আলাদা তা হল এর সিঁড়িগুলো। সর্বমোট ৩১ টি সিড়ি আছে যার প্রতিটাই ইতালীয় ঘরানার মার্বেল পাথরে তৈরি। সিঁড়ি থেকে উঠে জাদুঘর পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথরে তৈরি। রাজবাড়ির পশ্চাৎভাগে গুপ্ত সিঁড়ি রয়েছে। এই গুপ্ত সিঁড়ি কোন একটি সুড়ংগের সাথে যুক্ত যা সরাসরি ঘাঘট নদীর সাথে যুক্ত এমন একটা জনশ্রুতি শোনা যায় তবে সিঁড়ি টা এখন নিরাপত্তা জনিত কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাসাদের সুন্দর ফোয়ারাটি কালের বিবর্তনে শ্বেতশুভ্র মার্বেল ও তার সবুজাভ নকশা কিছুটা মলিন হলেও এখনো এর জৌলুষ বুঝা যায়। কথিত আছে রাণীর জন্যেই বিশেষ ক'রে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

 

বন্ধ-খোলার সময়সূচী

 

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে   খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে ।

 যেভাবে যাওয়া যায়

ঢাকা থেকে রংপুর বাসে যেতে হবে। এজন্য গ্রীন লাইন, টি আর ট্রাভেলস, নাবিল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কিছু বাস সার্ভিস রয়েছে। শ্রেণিভেদে ৫০০-১১০০ টাকা ভাড়া লাগবে। বাস থেকে নেমে সহজেই রিক্সা, ভ্যান বা অটো রিক্সায় তাজহাট জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে।এছাড়া ঢাকা-রংপুর রেল যোগাযোগ এর জন্য রয়েছে রংপুর এক্সপ্রেস যা ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এবং রংপুর পৌঁছায় ৭টা ৫ মিনিটে। সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

খাওয়ার ব্যাবস্থা

রংপুর শহরে থাকার জন্য বেশকিছু আবাসিক হোটেল যেমন- হোটেল গোল্ডেন টাওয়ার, হোটেল দি পার্ক, হোটেল শাহ আমানত, হোটেল তিলোত্তমা প্রভৃতি। এছাড়া খাবারের জন্যেও রয়েছে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।