NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬ | ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations
Logo
logo

নদিয়ার গ্রামে একমাত্র হিন্দু মহিলার মৃত্যু ঘোষণা মসজিদে, মঞ্জুশ্রীকে কাঁধ দিলেন রহমানেরা


খবর   প্রকাশিত:  ১২ মে, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

নদিয়ার গ্রামে একমাত্র হিন্দু মহিলার মৃত্যু ঘোষণা মসজিদে, মঞ্জুশ্রীকে কাঁধ দিলেন রহমানেরা

করিমপুর,১৭মার্চ,নদিয়ার মুসলিম প্রধান শুভরাজপুর গ্রামের একমাত্র হিন্দু মহিলা ছিলেন মঞ্জুশ্রী মণ্ডল। শনিবার ভোরে গ্রামের মসজিদের মাইকে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘোষিত হয়। মুসলিম প্রধান গ্রাম। সকলেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। গোটা গ্রামে হিন্দু কেবল একটি পরিবার। সদস্য দু’জন, স্বামী এবং স্ত্রী। মুসলিম প্রতিবেশীদের মাঝেই দিব্যি দিন কাটিয়ে দিয়েছেন নদিয়ার থানারপাড়া থানা এলাকার শুভরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা সনৎ মণ্ডল এবং মঞ্জুশ্রী মণ্ডল। শনিবার সকালে মঞ্জুশ্রীর মৃত্যু হয়েছে বয়সজনিত অসুস্থতায়। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করা হয় গ্রামের মসজিদের মাইকে। গ্রামবাসীরাই শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। মঞ্জুশ্রীর মৃত্যুতে চোখের জল ফেলেন শাহানারা, মেহেরুন্নিসা, রাজিয়ারা।

শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মঞ্জুশ্রী (৬৭)। প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এই খবর গ্রামে এসে পৌঁছায় ভোরবেলায়। রমজান মাসে সেহরীর খাওয়াদাওয়া শেষের পরেই মসজিদের মাইকে মঞ্জুশ্রীর মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করা হয়। তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় ফজরের নমাজের মাঝেই দোয়া পড়েন মসজিদের ইমাম। মঞ্জুশ্রীর কোনও পুত্রসন্তান ছিল না। তাই গ্রামের যুবকেরা তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। খবর দেওয়া হয় বৃদ্ধার কন্যা এবং আত্মীয়দের। দুই আত্মীয়ের সঙ্গে গ্রামের দু’জন মুসলমান যুবক রহমান এবং মিলটন তাঁর শবযাত্রায় কাঁধ দেন। মূলত মুসলিম ভাইয়েরাই বাঁশ কেটে খাটিয়া তৈরি করে বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার ঘাটে।

সেখানে হিন্দু শাস্ত্রীয় মতে দেহ দাহ করা হয়। মঞ্জুশ্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে যে সব আত্মীয়েরা এসেছিলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষই তাঁদের খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করেন। মঞ্জুশ্রীর স্বামী সনৎ বলেন, ‘‘দেশভাগের পর ১৯৬৪ সালে পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়া জেলা থেকে এই গ্রামে চলে এসেছিলাম। তখন আমার বয়স ১০-১২ বছর। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে এই গ্রামের লোকজনই আমার আত্মীয়। কখনও মনে হয়নি আমি অন্য ধর্মের। ওঁরা আমাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। ওঁদের ঋণ কোনও দিন শোধ করতে পারব না।’’ মঞ্জুশ্রীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন রেহেনা বেওয়া। বলেন, ‘‘প্রায় একই সময়ে আমরা বিয়ে হওয়ার পরে এই গ্রামে এসেছিলাম। অন্য ধর্মের হলেও আমরা দুই বোনের মতো থাকতাম। বড় বোন চলে গেলে ছোট বোনের কী হয়, তা বুঝতে পারছি।’’