NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদগাহ গোর-এ শহীদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত


খবর   প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

দেশের  অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদগাহ গোর-এ শহীদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :

 দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লি জামাতে অংশ নেন দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লি জামাতে অংশ নেন  দেশের তথা এশিয়া উপমহাদেশের মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দিনাজপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।  (৩১ মার্চ সোমবার ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মাহফুজুর রহমান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বের মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়। যেখানে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।  সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা।  এর আগে সকাল ৭টা থেকে মাঠে প্রবেশের জন্য গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিটি মানুষকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হয়। পুরো মাঠটি ছিল সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণাধীন। ছিল ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন। যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মাঠটিকে নজনদারিতে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন ছিল। এ ছাড়াও প্রতিটি কাতারে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।  বিভিন্ন জেলার ধর্মপ্রাণ লাখ লাখ মুসল্লি এই জামাতে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দান ইতোমধ্যেই বড় ঈদের ময়দান ও জামাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বড় জামাতে অংশগ্রহণে অনুভূতি ছিল অন্যরকম।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে মাঠে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  নামাজ আদায় শেষে মুসল্লি জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি গাইবান্ধা থেকে এসেছি। এটাই গোর-এ শহীদ ময়দানে আমার প্রথম ঈদের নামাজ। অনুভূতিটা অনেক সুন্দর। এখানকার আয়োজনসহ সব বিষয় ভালো লেগেছে। আল্লাহর কাছে ফিলিস্তিন ও দেশের জন্য দোয়া চেয়েছি।’  মালেক হোসেন নামে আরেক মুসল্লি বলেন, ‘আমি গাজিপুর থেকে এই মাঠে নামাজ পড়ার জন্য এসেছি। এতবড় জামাতের কথা শুনেছি, টিভিতে দেখেছি। এই প্রথম এখানে নামাজ আদায় করলাম। খুব ভালো লাগছে।’  দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, ‘গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে আমি এবার প্রথম এই জামাতে অংশগ্রহণ করেছি। আমি দেখেছি, দিনাজপুরবাসী ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মানুষজন এখানে নামাজ আদায় করতে এসেছেন। আনন্দ, উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নামাজ আদায় হয়েছে। নামাজের সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের ভাষ্যমতে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর সুশৃঙ্খলভাবে এবং বেশি মুসল্লির উপস্থিতিতে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ময়দান পুলিশ নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে রেখেছিল। আমরা এক সপ্তাহ ধরে এই মাঠকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিলাম। কোনও ধরনের অঘটন ঘটতে পারেনি। আমাদের পোশাকধারী পুলিশ ছিল, সাদা পোশাকে পুলিশ ছিল, ডিবি পুলিশ ছিল এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ছিল এবং সর্বপরি সাধারণ জনগণের সহযোগিতা ছিল। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শৃঙ্খলা রক্ষা করেছে। এজন্য সাধারণ জনগণকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’  দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বসাধারণ জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি, যেন সবাই সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন আসেন। তাদের জন্য নামাজের আরও উত্তম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে চাই। এখানে সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করার জন্য পুলিশ, সাংবাদিক সবাই সহযোগিতা করেছেন। সামনে এই গোর-এ শহীদ ময়দানকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করার জন্য আমরা কাজ করবো।’  দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ২০১৭ সালে নির্মিত ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঈদগাহ মাঠটি নান্দনিক হিসেবে নির্মাণ করা হয়। এই ৫০ গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মিহরাব (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) তার উচ্চতা ৪৭ ফুট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এ ছাড়া ৫১৬ ফুট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। উপমহাদেশে এত বড় ঈদগাহ মাঠ দ্বিতীয়টি নেই। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে। ২০১৭ সাল থেকেই প্রতিবারে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করছেন দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তবে করোনার প্রকোপের ফলে গত দুই বছরে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পর আবারও পরিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদের জামাত।