NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

বাংলাদেশের সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও গম ক্রয় চুক্তি নিয়ে রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতির প্রেক্ষিতে টিআইবির প্রতিউত্তর


মশিউর আনন্দ প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও গম ক্রয় চুক্তি নিয়ে রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতির প্রেক্ষিতে টিআইবির প্রতিউত্তর
ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস প্রেরিত “রাশিয়া-বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান ও গম ক্রয় চুক্তির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বিবৃতির প্রতিবাদ” শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জাতীয় গণমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত হওয়ার সূত্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর নজরে এসেছে। এই বিবৃতির মাধ্যমে উল্লেখ্য দুই চুক্তি নিয়ে টিআইবির উদ্বেগকে রাশিয়ান দূতাবাসকর্তৃক গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়াকে ইতিবাচক বিবেচনা করছে টিআইবি। তবে এই বিবৃতির মাধ্যমে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ান বৈরিতার ব্যাপারে টিআইবির উদ্বেগকে যুক্ত করার রাশিয়ান দূতাবাসের এই প্রচেষ্টা পুরোপুরি অযৌক্তিক এবং আত্মঘাতী উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের গম আমদানি বা গ্যাস অনুসন্ধানসহ কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা পণ্য সরবরাহকারী কোনো দেশ সম্পর্কে টিআইবির কোনো আপত্তি নেই। টিআইবির জন্য একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ যথাযথ প্রক্রিয়া, দেশের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ভ্যালু ফর মানি এবং সর্বোপরি এই ধরনের চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘টিআই-রাশিয়াকে “বিদেশি এজেন্ট” আখ্যা দিয়ে নিপীড়ন করা রাশিয়ান সরকারের এমন এক কর্মকাণ্ড, যা তাদের গর্ব করার মতো কাজের তালিকায় একেবারে তলানিতে থাকবে, রাশিয়ান দূতাবাস এই বিষয়টি বুঝতে না পারার ঘটনায় টিআইবি হতাশ হলেও, অবাক হয়নি। রাশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ^াসযোগ্য কাজের জন্যই যে টিআই রাশিয়াকে ক্লেপ্টোক্রেটিক রাশিয়ান সরকারের নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। তাছাড়া, টিআই-ই একমাত্র এনজিও বা সিএসও নয়, যা রাশিয়ান শাসনব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং নিপীড়িত হতে হয়েছে।’ উল্লিখিত দুটি চুক্তির বিষয়ে টিআইবির উদ্বেগের পেছনের যুক্তি পরপর দুটি বিবৃতিতে পর্যাপ্তভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের সূত্রে ব্যাপকভাবে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তা টিআইবির ওয়েবসাইটেও উন্মুক্ত রয়েছে। বলাবাহুল্য, রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতি চুক্তি দুটিকে ঘিরে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রিক এলএলসি রাশিয়ান রপ্তানিকারকের এজেন্ট হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল না বলে, দূতাবাসের দাবি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ওই সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তথাকথিত স্থানীয় এজেন্ট চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। টনপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ল্যান্ডিং খরচ এবং এই উচ্চ হারে ৫ লাখ টন পণ্যের চুক্তিতে কীভাবে ভ্যালু ফর মানি নিশ্চিত করা হয়েছে- এই বিষয়ে রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতিতে কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধিকন্তু, “জি-টু-জি ভিত্তিতে গম আমদানির খরচ উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতির চেয়ে কম” এই দাবিটিও গ্রহণযোগ্য নয় কারণ, জি-টু-জি পদ্ধতির ক্ষেত্রে ও নির্ধারিত দর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না, তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দর বিশ^বাজারে তূলনামূলক কম ছিলো এবং আরও কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টিআইবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করার প্রচেষ্টাও প্রাসঙ্গিক নয়। গ্যাজপ্রমকে চুক্তি প্রদানের ব্যয়ের তুলনায় বাপেক্সকর্তৃক গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমিত ব্যয় বিবেচনা করে টিআইবি তার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এই চুক্তির অধীনে গ্যাজপ্রমের ব্যয় বাপেক্সের চেয়ে তিন গুণ বেশি ছিলো কেনো- তা রাশিয়ান দূতাবাস ব্যাখ্যা করলে দূতাবাসের প্রয়াস অর্থবহ হতো।