NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Logo
logo

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হচ্ছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হচ্ছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি

 লোভনীয় অফারের বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হচ্ছে একের পর এক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। ঢাকঢোল পিটিয়ে আসা এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর অনলাইনে সাড়া ফেলে পরে গ্রাহক, এজেন্টদেরকে সর্বস্বান্ত করে লাপাত্তা হচ্ছে। আর এসব জালিয়াতির ঘটনা প্রায়ই হচ্ছে। ঘটনার পর মামলা হয়। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তারপর আলোচনা থেমে যায়। পরে আবার নতুন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। নতুন প্রতিষ্ঠান কিছুদিন পর আবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। এতে করে হাজার হাজার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোগান্তিরও শিকার হন। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র নীতিমালার অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া মানুষকে ঠকাচ্ছে। সরকার শুধু লাইসেন্স দিয়ে দায় সারে। দীর্ঘদিন ধরেই ওটিএ পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা বিধিমালা প্রণয়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে ‘এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)’। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ওটিএ’র প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, লোভনীয় প্যাকেজ ও অধিক মূল্য ছাড়ের ফাঁদে পা না দেয়ার জন্য ট্রাভেল এজেন্সি ও সাধারণ যাত্রীদের সতর্ক করেছিল তারা।   ২০১৭ সালে চালুর পর কম খরচে টিকিট বিক্রির কারণে দ্রুততম সময়ে বাজার দখল করে নেয় ফ্লাইট এক্সপার্ট। শনিবার হুট করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেশ ছাড়েন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রাশিদ শাহ সাঈম। এ ঘটনায় রাতেই রাজধানীর মতিঝিল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিক বিপুল সরকার। পরে প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- ফ্লাইট এক্সপার্টের হেড অব ফিন্যান্স সাকিব হোসেন, চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাঈদ আহমেদ। গ্রেপ্তার হননি সালমান বিন রাশিদ শাহ সাঈম ও তার বাবা এম এ রাশিদ। পুলিশ জানায়, বিক্রেতা এজেন্সিসহ বহু গ্রাহক অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য ফ্লাইট এক্সপার্টে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এমন ১৭টি ভুক্তভোগী এজেন্সির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

২০২০ সালে ‘হালট্রিপ’ নামে একটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি হুট করে বন্ধ হয়ে যায়। এর চেয়ারম্যান ছিলেন আলোচিত ব্যবসায়ী পি কে হালদার। হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে গ্রাহকদের টাকার কোনো সুরাহা না করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালে বন্ধ হয় ‘২৪ টিকিট ডটকম’ নামের আরেকটি ওটিএ। উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির নামে গ্রাহক ও ৬৭টি এজেন্টের চার কোটি ৪৪ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে সিআইডি। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। ২০২৩ সালে ‘লেটস ফ্লাই’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৩৮টি ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল রামপুরা থানা পুলিশ।