NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Logo
logo

রেখা আহমেদ এখনও অনন্য, সপ্রতিভ, নিজের আলোকময়তায় উজ্জ্বল - মনিজা রহমান


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

রেখা আহমেদ এখনও  অনন্য, সপ্রতিভ, নিজের আলোকময়তায় উজ্জ্বল - মনিজা রহমান

রেখা আহমেদের কথা মনে আছে? এক সময়ের নামকরা, জাদরেল অভিনেত্রী রেখা আহমেদ। কালের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও এখনও তিনি অনন্য, সপ্রতিভ, নিজের আলোকময়তায় উজ্জ্বল।  ১৮ অক্টোবর ছিল প্রতি বছরের মতো রেখা আপার জন্মদিন। আগে যখন জ্যাকসন হাইটসে থাকতাম, প্রতি বছর এই দিনে কিরন ভাইয়ের নেতৃত্বে আমি-রুহি-নীহার ভাই যেতাম রেখা আপা আর মনজুর ভাইয়ের বাসায়।  নিউইয়র্ক সিটিতে থাকি বলেই হয়তো রেখা আপার মতো এতো বড় মানুষের কাছাকাছি আসার সুযোগ পাই। পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যে পথ তিনি অতিক্রম করে এসেছেন, খুব বেশী বাঙালির সৌভাগ্য বা সাহস হয়নি সেটা করার।  বাংলাদেশের একটি ছোট্ট জেলা ঝিনাইদহ, রেখা আপা যখন জন্মেছিলেন তখন ছিল মহকুমা শহর, সেখানে তিনি গান, নাচ, মঞ্চ নাটক, রাজনীতি অনেককিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটা খুব ভাবতে অবাক লাগে যে, বাংলাদেশের সবচেয়ে আত্মহত্যা প্রবণ জেলা ঝিনাইদহ থেকে উঠে এসেছিলেন রেখা আহমেদের মতো একজন দেয়াল ভাঙ্গা মানুষ।  এ বছরের জন্মদিনটা আশি বছরের বলেই আয়োজনে আড়ম্বর ছিল বেশী। রেখা আহমেদের স্বামী প্রখ্যাত সাংবাদিক মনজুর আহমেদ ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চেয়েছিলেন স্ত্রীকে। স্ত্রীর আশিতম জন্মদিনে ‘সারপ্রাইজ’ দেওয়ার মতো এমন অনন্য ঘটনা বাঙালি সমাজে সচরাচর ঘটে না। ইতিহাসের সাক্ষী হতে ওই সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে হাজিরা দিয়েছিলেন অনেকেই।  রেখা আহমেদ অভিনয়যাত্রা শুরু হয় কামাল লোহানীর সঙ্গে মঞ্চ নাটকে।  তারপর বুলবুল আহমেদ, আলতাফ, খান জয়নুল, সৈয়দ আহসান আলী সিডনি থেকে শুরু করে অনেক গুনী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন সংসপ্তক নাটকে কানকাটা রমজান হুমায়ুন ফরিদীর স্ত্রী হিসেবে।  রেখা আহমেদ অভিনয় জীবনের সহযাত্রী বা  নায়কেরা এখন আর কেউ বেঁচে নেই। কিন্তু তিনি আছেন, ছিলেন এবং থাকবেন আমাদের মাঝে আরো বহু বছর।