NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

বিভাজনের রেখায় আঁকা ‘গোল্ডেন এজ’: ট্রাম্পের ভাষণ ও আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা - আকবর হায়দার কিরণ


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

বিভাজনের রেখায় আঁকা ‘গোল্ডেন এজ’: ট্রাম্পের ভাষণ ও আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা - আকবর হায়দার কিরণ

 আকবর হায়দার কিরণ

 ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রেসিডেন্ট Donald Trump কংগ্রেসে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ প্রদান করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ৪৮ মিনিট দীর্ঘ এই ভাষণে তিনি প্রশাসনের অর্জন তুলে ধরে আমেরিকার জন্য একটি ‘গোল্ডেন এজ’ বা স্বর্ণযুগের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক জনমত বিশ্লেষণ বলছে—এই ভাষণ ছিল রাজনৈতিকভাবে তীব্র, বিভাজনমুখী এবং তথ্যগত বিতর্কে ঘেরা। অর্থনীতি: গর্জন নাকি উদ্বেগ? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থনীতিকে “roaring” বা গর্জনশীল হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, জ্বালানির দাম কমেছে, এবং শেয়ারবাজার উচ্চতায় অবস্থান করছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন সুরে। তারা বলছেন, সাধারণ আমেরিকান এখনও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি পরিচালনায় প্রশাসনের নীতির প্রতি সমর্থন বিভক্ত। ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ভাষণের কিছু দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, ওরেগনের কংগ্রেসওম্যান সুজান বোনামিসি শুল্কনীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পার্থক্য ইঙ্গিত করে—ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচক ইতিবাচক হলেও, মাইক্রো স্তরে নাগরিকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কংগ্রেসের ভেতরের উত্তেজনা ভাষণের সময় ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কথোপকথন ও প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা স্পষ্ট ছিল। Ilhan Omar এবং Rashida Tlaib প্রশাসনের কিছু নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। টেক্সাসের প্রতিনিধি Al Green একটি প্রতিবাদী সাইন প্রদর্শনের পর কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এই দৃশ্যগুলো আমেরিকান রাজনৈতিক সংস্কৃতির বর্তমান বিভাজনের প্রতিফলন হিসেবে অনেক বিশ্লেষকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। বয়কট ও বিকল্প বার্তা ভাষণের প্রতিবাদে বহু ডেমোক্র্যাট সদস্য কংগ্রেস অধিবেশন বয়কট করেন এবং নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে বিকল্প টাউন হল সভা করেন। ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন ও জেফ মার্কলি ভার্চুয়াল টাউন হলের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত করে—দলীয় বিরোধিতা এখন কেবল কংগ্রেস কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। যা বলা হলো না রাজনৈতিক ভাষণে কখনও কখনও অনুল্লেখিত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও, প্রশাসনের কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে ভাষণে বিস্তারিত আলোচনা অনুপস্থিত ছিল। এই নীরবতা সমালোচকদের জন্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সামনে কোন পথ? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণ তাঁর সমর্থকদের কাছে আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে এটি বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কৌশলের ধারাবাহিকতা। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ভাষণ রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে এনে একটি বিকল্প বয়ান নির্মাণের চেষ্টা করবেন—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ‘গোল্ডেন এজ’-এর দাবির বিপরীতে, বাস্তবতার বিচার শেষ পর্যন্ত করবে ভোটাররাই।

 আকবর হায়দার কিরন, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি