NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

৮ মার্চ: নারী-একটি দিবস নয়, একটি পূর্ণ মানুষ


নন্দিনী লুইজা প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

৮ মার্চ: নারী-একটি দিবস নয়, একটি পূর্ণ মানুষ

 আমি নন্দিনী লুইজা-আমাকে মানুষ মনে করি । দুটো মেয়ে আমার তাদেরকে আমি মানুষ হিসেবে বড় করেছি তারপরে বলেছি তুমি নারী। আগে মানুষ তারপরে নারী। আমি সবসময় বলি চার দেয়ালের একটি ঘরের মধ্যে থাকি তখন স্বামীর সহধর্মিনী, যখন বাসায় থাকি সন্তানদের মা আর যখন বাড়ির বাহিরে বের হই তখন নিজের কর্মজীবন নিয়ে মানুষ হয়ে কাজে বের হই। তাই এই নারী দিবসে একটাই আমার চাওয়া এবং পাওয়া নারী কোন দিবসে আবদ্ধ কোন জন্তু নয় আগে সে মানুষ তারপর নারী।    ৮ মার্চ এলেই পৃথিবী জুড়ে ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা, সেমিনার, ব্যানার আর কিছু উচ্চকিত বাক্য শোনা যায়—“নারী শক্তি”, “নারীর ক্ষমতায়ন”, “নারী দিবসের শুভেচ্ছা”।কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-নারী কি সত্যিই শুধু একটি দিনের জন্য স্মরণীয়? নারী কি ক্যালেন্ডারের একটি তারিখে আটকে থাকা কোনো প্রতীক?  নারী কোনো দিবস নয়।  নারী একটি পূর্ণ মানুষ।  একজন নারী জন্ম দেয়, লালন করে, শিক্ষা দেয়, সংগ্রাম করে, আবার প্রয়োজনে সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তিনি মা, তিনি কন্যা, তিনি প্রেমিকা, তিনি বন্ধু, তিনি সহযোদ্ধা। তার হাসির ভিতরে যেমন কোমলতা আছে, তেমনি আছে অগ্নির মতো প্রতিরোধের শক্তি। এই বহুমাত্রিক মানুষটিকে যদি আমরা বছরের মাত্র একটি দিনে স্মরণ করি, তাহলে সেটি সম্মান নয়-বরং এক ধরনের সংকীর্ণতা। যা নারীল সীমানা এঁকে দেয়।    ৮ মার্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাস কেবল বক্তৃতার বিষয় নয়; সেটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। একটি মেয়ের নিরাপদে পথে হাঁটার অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা-এসব কোনো দিবসের উপহার নয়, এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার।

অথচ প্রায়ই দেখা যায়, নারী দিবসকে ফুলের শুভেচ্ছা আর সামাজিক মাধ্যমে কিছু আবেগী বাক্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। বাস্তব জীবনে যেখানে নারীরা প্রতিদিন বৈষম্য, সহিংসতা এবং অবমূল্যায়নের মুখোমুখি হয়, সেখানে একদিনের প্রশংসা অনেক সময় ভণ্ডামির মতো শোনায়। কারণ সম্মান যদি সত্যিই থাকে, তবে তা প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ পায়-একটি দিন ঘোষণায় নয়।   নারীকে শক্তি বলে মহিমান্বিত করার চেয়ে তাকে মানুষ হিসেবে স্বীকার করাই বেশি জরুরি। কারণ মানুষ হিসেবেই তার অনুভূতি আছে, স্বপ্ন আছে, ভুল করার অধিকার আছে, নিজের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।   তাই ৮ মার্চের মূল কথা হওয়া উচিত-নারীকে আলাদা করে দেবী বানানো নয়, তাকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া। যেদিন সমাজ সত্যিকার অর্থে বুঝবে যে নারী কোনো বিশেষ দিবসের প্রতীক নয়, বরং মানব সমাজের সমান অংশীদার-সেদিন হয়তো নারী দিবসের আলাদা প্রয়োজনই থাকবে না। কারণ তখন প্রতিটি দিনই হবে মানুষের দিন, সমতার দিন।  নারী কোনো দিবস নয়।   নারী-একটি জীবন, একটি সত্তা, একটি পূর্ণ মানুষ।