NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

সবুজ অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে আফ্রিকার নতুন সুযোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

সবুজ অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে আফ্রিকার নতুন সুযোগ

চীনের 'দুই অধিবেশন' কেনিয়া, আফ্রিকা মহাদেশ এবং গোটা গ্লোবাল সাউথের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি কেনিয়ার 'ক্যাপিটাল এফএম রেডিও' ওয়েবসাইটের এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।
নিবন্ধে লেখক স্টিফেন এনডেগওয়া উল্লেখ করেন, চলতি বছরের দুই অধিবেশন অত্যন্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, এর মাধ্যমে চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তহবিলের প্রবাহ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অংশীদারত্বকে প্রভাবিত করবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, আফ্রিকার জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বহু বছর ধরে বিশ্ব উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে চীন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেশটির অবদান ৩০ শতাংশেরও বেশি। চীনের উন্নয়নের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল প্রসারিত হয়, পণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয় এবং চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো লাভবান হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থার উপাত্ত উদ্ধৃত করে নিবন্ধে জানানো হয়, চীনের অর্থনীতি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের অর্থনীতিও গড়ে ০.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জাম্বিয়ার তামা খনি কোম্পানি এবং পূর্ব আফ্রিকার কৃষি রপ্তানিকারকদের মতো রপ্তানিমুখী আফ্রিকান প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের এই বিকাশ থেকে স্পষ্টভাবে উপকৃত হচ্ছে।

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মডেলের পরিবর্তন সম্পর্কেও লেখক নিজের মতামত তুলে ধরেন। স্টিফেন এনডেগওয়া বলেন, চীন উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়নের পথে হাঁটছে এবং ব্যাপক হারে 'সবুজ রূপান্তর' ত্বরান্বিত করছে। উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চীনের এই রূপান্তরের ফলে আফ্রিকান দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছে।

স্টিফেন এনডেগওয়ার মতে, নতুন শক্তির যান, লিথিয়াম ব্যাটারি ও ফটোভোলটাইক (সৌরবিদ্যুৎ) পণ্য—চীনের এই তিনটি পণ্যের বৈশ্বিক সাফল্য চীনের ব্যাপক রূপান্তরেরই প্রমাণ দেয়। যেসব আফ্রিকান দেশের লিথিয়াম, কোবাল্ট ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ রয়েছে, সবুজ অর্থনীতি তাদের সামনে বিশ্ব মূল্য শৃঙ্খলে প্রবেশের এক কৌশলগত পথ খুলে দিচ্ছে। বর্তমানে আফ্রিকান দেশগুলো শুধু কাঁচামাল রপ্তানিকারক হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা চীনের সবুজ শিল্প উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিম্নগামী প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরেও অংশ নিতে পারছে।
নিবন্ধে আরও জানানো হয়, চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার রূপরেখা অনুযায়ী ভবিষ্যতে চীন-আফ্রিকা সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং তা অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত কাঠামোর ওপর আরও বেশি জোর দেবে।

স্টিফেন এনডেগওয়া উল্লেখ করেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য চীনের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত লক্ষণীয় একটি বিষয়। পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার মাধ্যমে চীন তার অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শিল্প উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে। একটি স্থিতিশীল নীতিব্যবস্থা শুধু বিনিয়োগই আকৃষ্ট করে না, বরং এটি যেকোনো শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও প্রদান করে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপট দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের খাতে এগিয়ে যাবে।

প্রবন্ধের শেষাংশে বলা হয়, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং খণ্ডিত সরবরাহ শৃঙ্খলের বর্তমান এই বিশ্বে, চীনের অব্যাহত ও স্থিতিশীল উন্নয়ন গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতেই স্থিতিশীলতা এনে দিচ্ছে।

সূত্র:অনুপমা-তৌহিদ-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।