NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন
Logo
logo

ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে পেন্টাগন


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে পেন্টাগন

  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কথা বলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধির এক বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের জন্য আরও শক্তিশালী সামরিক বিকল্প দেওয়ার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার পর্যন্ত স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।    পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, সম্ভাব্য এই নতুন বাহিনীতে পদাতিক সৈন্যের পাশাপাশি আধুনিক সাঁজোয়া যান বা ট্যাংকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ওই অঞ্চলের রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।  বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর সংখ্যা ও শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি বেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলে আল জাজিরা ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা এবং প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত মোতায়েনের নির্দেশ জারি করেছে।  

 এখন নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর কলেবর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে সেনা মোতায়েন মূলত ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের একটি কৌশলী অংশ, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়।  পেন্টাগনের এই যুদ্ধপ্রস্তুতি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে ইরান এবং তার মিত্রদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের এই প্রস্তাব যদি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বিশেষ করে সাঁজোয়া যানের অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমেরিকা কেবল আকাশপথে হামলা নয় বরং প্রয়োজনে স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দিলে তা এই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।  সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতি ও সামরিক শক্তি—উভয় পথই খোলা রাখছে। এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত থাকবে অর্থাৎ তিনি বারবার যুদ্ধের ইতি টানার কথা বলছেন, কিন্তু পেন্টাগনের এই বিশাল সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা ইরানকে একটি কঠোর বার্তা দিচ্ছে যে আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবে না।   মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আপাতত বিশ্ব সম্প্রদায় পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাল্টা কৌশলের দিকে গভীর নজর রাখছে।