NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Logo
logo
মামলা প্রত্যাহারের পরই নির্বাচন

চিটাগাং এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে তথ্য  তিন ভাড়াটিয়ার কাছে পাওনা প্রায় এক লাখ ডলার


সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত:  ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৩ এএম

চিটাগাং এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে তথ্য  তিন ভাড়াটিয়ার কাছে পাওনা প্রায় এক লাখ ডলার

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের পুরনো সামাজিক সংগঠন চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা’র অভ্যন্তরীন সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা ঐতিহাহী এই সংগঠনের সমস্যা আরো বাড়ছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, সমিতির অর্থ আতœসাৎ প্রভৃতি ঘটনায় নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংগঠনটি। সমিতির উদ্ভুত পরিস্থিতি জনসম্মুকে তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে- ‘একটি অসৎ গোষ্ঠী কর্তৃক অব্যাহত মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য’ই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। এতে সমিতি ভবনের তিন ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় এক লাখ ডলার ভাড়া বকেয়া পাওনা, কতিপয় সদস্য কর্তৃক অর্থ আতœসাৎ সহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলা হয়, মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সমিতির নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এজন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। খবর ইউএনএ’র।

জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টের মিলনায়তনে গত ৮ জুন সোমবার সন্ধায় সমিতির বর্তমান কার্যকরী কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সমিতির সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা ও দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। ব্যতিক্রমী এই সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ও ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য কামাল হোসেন মিঠু। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট  ছিলেন সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ ও মনির আহমেদ সহ মোরেশদ রেজভী, সেলিম, এনাম চৌধুরী, শিহাব উদ্দিন চৌধুরী লিটন, মতিউর রহমান চৌধুরী, আবু তালের চৌধুরী চান্দু, শাজাহান, জামাল চৌধুরী, কালাম, মতি, টি আলম, শফিক, নুরুল আমিন, খলিবুল্লা তামীম মহসিন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্রমাগত মিথ্যাচার, গোয়েবেলসিও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে এই আয়োজন। লিখিত বক্তব্যে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিবাদদমান সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি অর্থবহ নির্বাচন করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বতীকালীন কমিটি গঠন, তফসিল অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ২০২৪ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, নির্বাচনে দুইটি প্যানেলের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফলাফল ঘোষণা করার পরপরই নির্বাচনে পরাজিত একজন সভাপতি পদপ্রার্থী নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় কিছু পত্রপত্রিকায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এই অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে ফেসবুক লাইভে এসে ওই ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ সম্মানিত চট্টগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে নানা ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য করেন যদিও চট্টগ্রামবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবং জনরোষের ভয়ে ওই পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রæয়ারী ২০২৫, রাতের অন্ধকারে ভবনের তালা ভেঙে কতিপয় ব্যক্তি চট্টগ্রাম ভবনে প্রবেশ করলে সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক লোকাল প্রিসিঙ্কট এ অভিযোগ দায়ের করেন। গোয়েন্দা তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের সনাক্ত করে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি নিজ উদ্যোগে ক্রিমিনাল মামলা দায়ের করেন এবং এর ফলশ্রæতিতে কেউ কেউ গ্রেফতার ও হন। উপরোক্ত ক্রিমিনাল মামলার ফলশ্রæতিতে কারোর কারোর বিরুদ্ধে অর্ডার অফ প্রটেকশনও জারি করা হয়।

অনাদায়ী ভাড়া আদায়ের মামলা সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রাম ভবনের ছয়টি এপার্টমেন্টের ভাড়া বিবাদমান দুই দলের পক্ষ এবং বিপক্ষ নিয়ে কতিপয় অসাধু ভাড়াটিয়া সুযোগ গ্রহণ করে আসে এবং এবার ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজ অবধি এই তিনজন ভাড়াটিয়ার কাছে চট্টগ্রাম সমিতির পাওনা ভাড়ার পরিমান ৯৭৭১১.২০ (সাতানব্বই হাজার সাতশত এগারো ডলার বিশ সেন্টস)। বর্তমানে এই অনাদায়ী ভাড়ার মামলাটি ট্রায়াল এর জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।  লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২১ সালে অন্তবর্তীকালীন কমিটি গঠনের পূর্বে ভুয়া নির্বাচন দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। ৯০০ সদস্য প্রদর্শন করে নির্বাচনের প্রহসন করে ‘অনেস্ট ব্যালট’-এর ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বলে দাবি করলেও সদস্য ফি’র অর্থ কোথায় জমা হয়েছে তার হদিশ এখনো তৎকালীন নেতৃবৃন্দ দিতে পারেননি। লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং এই অবস্থান অব্যাহত থাকব। চট্টগ্রামবাসীর হকের অর্থ, লাশ দাফনের অর্থ যারা মেরে দিয়েছেন- তাদের কোনো ভাবেই রেহাই দেয়া হবে না, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আবু তাহের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি একদিনও ক্ষমতায় থাকতে চাই না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সমিতির নেতৃত্ব দিয়েছি। সদস্য থেকে শুরু করে কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক পদ সহ বিভিন্ন পদে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছি। এখন নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমার সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দিতেই সবাইকে নির্বাচন করতে চাই। তবে তার আগে সমিতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সংশ্লিস্টদের তুলে নিতে হবে। কেননা, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা সমিতির অর্থ চুরি বা দূর্নীতি করার জন্য সামাজিক সংগঠন করতে আসিনি। নিজেদের সময় অর্থ দিয়ে সংগঠন করি মানুষের সেবার জন্য। কিন্তু সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আর কোন ভালো লোক নেতৃত্বে আসবে না।