NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations
Logo
logo

পোড়াদহ মেলায় এক মণ ব্লাক কার্প, ১১ কেজি ওজনের মিষ্টি


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

পোড়াদহ মেলায় এক মণ ব্লাক কার্প, ১১ কেজি ওজনের মিষ্টি

এম আব্দুর রাজ্জাক বগুড়া থেকে : বগুড়ার গাবতলীতে শুরু হয়েছে দুইশো বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহের মেলা। দু’দিনব্যাপী মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ।এবারের মেলায় সবচেয়ে বড় সাইজের ব্লাক কার্প মাছের ওজন ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা হিসেবে মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।এটি মাছের মেলা হিসেবেও অনেকের কাছে পরিচিত। এখান থেকে মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যান মেয়ের জামাইরা। মেলা উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে চলছে অতিথি আপ্যায়ন ও আনন্দ উৎসব। আগামীকাল হবে বৌ মেলা।

বগুড়া সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইছামতির তীরে পোড়াদহ এলাকায় এ মেলা বসে। ফলে মেলাটি সবার কাছে ‘পোড়াদহ’ মেলা নামেই সর্বাধিক পরিচিত। প্রায় দুইশো বছর আগের ঘটনা। মেলাস্থলে ছিলো একটি বিশাল বটবৃক্ষ। সেখানে একদিন হঠাৎ এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে। পরে সেখানে আশ্রম তৈরি করেন সন্ন্যাসীরা। একপর্যায়ে স্থানটি পূণ্যস্থানে পরিণত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে।

প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার উক্ত স্থানে সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সমাগত হন দূর-দূরান্তের ভক্তরা। কালের আবর্তে স্থানটিতে লোকজনের উপস্থিতি বাড়তেই থাকে। এভাবে গোড়াপত্তন ঘটে পোড়াদহ মেলার। ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সব ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে এই মেলা।

এ বছর মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ নিয়ে আসা গাবতলীর গোলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান বলেন, ‘ আমি নাটোর থেকে ৪০ কেজি ওজনের ব্লাক কার্প মাছ এনেছি৷ এটিই এই মেলার সবচেয়ে বড় মাছ। প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা মাছটি বিক্রি করতে চাই। তবে কেউ দামাদামি করলে কিছুটা কম করতে পারি।’

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বাচ্চু সরকার নামে এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ৩০ কেজি ওজনের কাতল এনেছি। দাম ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি চাচ্ছি। দেখি দাম মিলে গেলে বিক্রি করে দিব।’এছাড়াও মেলায় রুই ৪০০-৫০০ টাকা কেজি, বোয়াল ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং আইড় মাছের দাম চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের এ মেলায় মাছের আকৃতির ছোট বড় সাইজের প্রায় বিশ রকমের মিষ্টি বিক্রি হয়। কাতলা মাছের আকৃতির ১১ কেজি ওজনের মিষ্টি এবার সবার নজর কেড়েছে। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা হিসেবে ওই মিষ্টির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া কুল (বরই) এবং কেশরসহ নানা স্বাদের ফলও উঠেছে মেলায়। এমনকি বিভিন্ন ধরণের ফার্নিচারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ছিল চোখে পরার মত।

মেলায় আসা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পাঁচমাইল এলাকার বাসিন্দা আলাল উদ্দিন জানান, মেলা উপলক্ষে তার মেয়ে এবং জামাইসহ নাতি-নাতনিরা এসেছেন। তাদের জন্য তিনি ১০ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে ৭ কেজি ওজনের একটি আইড় মাছ কিনেছেন।নুরুল আমিন নামে অপর এক ব্যক্তি জানান, তার শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন এ মেলায় তিনি প্রতি বছর আসেন। অন্যান্য বছরের মত এবারও তিনি বিভিন্ন ধরনের ৫ কেজি মিষ্টি কিনেছেন।

পোড়াদহ মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এবারের মেলায় প্রায় দুই হাজার দোকান বসেছে। এর মধ্যে মাছের দোকানই চার শতাধিক। এসব দোকানে কয়েক কোটি টাকার মাছ কেনা বেচার টার্গেট করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে মেলা সেভাবে জমেনি। এবার করোনার কোন প্রভাব নেই। তাই মেলায় বিপুল লোকজনের সমাগম হবে।’