NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations
Logo
logo

ভবিষ্যতকে শক্তিশালী করে ‘ক্লাউড’


শিশির, বেইজিং: প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ১১:২১ পিএম

ভবিষ্যতকে শক্তিশালী করে ‘ক্লাউড’

 

 



২০২৩ সালের বিশ্ব ইন্টারনেট উচেন শীর্ষসম্মেলন ৮-১০ নভেম্বর চীনের চেচিয়াং প্রদেশের উচেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এ মেলার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট হচ্ছে উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্র এবং বিভিন্ন সভ্যতা এখানে পরস্পর থেকে জ্ঞান অর্জন করে। চলতি বছর বিশ্ব ইন্টারনেট উচেন শীর্ষসম্মেলনের দশম বার্ষিকী এবং এবার সম্মেলেনের প্রতিপাদ্য হলো ‘সবার জন্য উপকারী অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল ডিজিটাল বিশ্ব গড়ে তোলা- সাইবারজগতে অভিন্ন ভবিষ্যতের সমাজ নির্মাণ। গেল ১০ বছরে, বিশ্ব ইন্টারনেট উচেন শীর্ষসম্মেলন বৈশ্বিক ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তি চীনের অর্থনীতি ও সমাজে বড় পরিবর্তন বয়ে এনেছে। দশ বছরে চীন ইন্টারনেট প্রযুক্তির ‘অনুসরণকারী’ থেকে ‘উদ্যোক্তা’য় পরিণত হয়েছে।

সানি হেভি ইন্ডাস্ট্রি হলো চীনের বৃহত্তম যন্ত্রপাতি নির্মাতা এবং এ কোম্পানির উৎপাদন কেন্দ্রে ‘রুটক্লাউড’ নামে একটি শিল্প ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম কোম্পানির সব তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে। সানি হেভি ইন্ডাস্ট্রির সব নির্মাণ যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও সারা দেশের মেরামত ও পরিষেবা কেন্দ্র ‘রুটক্লাউড’-এর সঙ্গে যুক্ত। প্রতিটি উৎপাদন লাইনের সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও উৎপাদন অগ্রগতিসহ সব তথ্য রুটক্লাউডে’ পাওয়া যায়। বড় এমন একটি প্ল্যাটফর্মের রিয়েল-টাইম ডেটার পরিমাণ একটি ৪ লাখ লোকসংখ্যার শহরের একদিনের ডেটার সমান।

ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং ক্লাউড কম্পিউটিং এখন বিদ্যুৎ ও পানির মতো প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবায় পরিণত হচ্ছে। যেমন কোম্পানি বা ব্যক্তি যখন কম্পিউটিং করতে চায়, তখন নিজের কম্পিউটার ও সার্ভার কিনতে হয়। এখন ক্লাউড কম্পিউটিং করলে বিদ্যুৎ ও পানির সেবার মতো ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী খরচ দেওয়া যায়।

চীনে ক্লাউড কম্পিউটিং শুরু হয় ২০০৮ সালের দিকে এবং দেশটিতে দ্রুত একটি বৈচিত্র্যময় বাজার গড়ে ওঠে। অনেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-বিষয়ক বড় কোম্পানি এ ব্যবসায় যোগ দিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে এবং দেশে-দেশে এ ক্ষেত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে।

চীনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাডেমির ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিগ ডেটা গবেষণালয়ের পরিচালক হ্য পাও হং মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্লাউড কম্পিউটিং হতে পারে বৈশ্বিক ডিজিটাল প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ একটি বিষয় কারণ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘসময়ে এ বিষয়টিকে জাতীয় কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতামূলকতা হিসেবে এগিয়ে নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানও ক্লাউড কম্পিউটিংকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে মনে করে।

পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীনের ক্লাউড কম্পিউটিং দেরিতে শুরু হয়েছে তবে উন্নয়ন হচ্ছে দ্রুত। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘চীনের ক্লাউড কম্পিউটিং দ্বাদশ পাঁচশালা পরিকল্পনা’ প্রকাশ করে। এটি চীনের প্রথম ক্লাউড কম্পিউটিং বিষয়ক সরকারি বিশেষ পরিকল্পনা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ ‘ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে নবায়ন ও উন্নয়ন জোরদার, তথ্যশিল্পের নতুন ব্যবসা লালন’ নামের একটি দলিল প্রকাশ করে, যাতে বলা হয় ২০২৩ সালে ক্লাউড কম্পিউটিং হবে চীনের তথ্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফর্ম এবং সাইবারজগতে শক্তিশালী দেশ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। 
বিগ ডেটা এবং ইন্টারনেট অব থিংসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের এবং এগুলো উৎপাদন ও জীবনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। 

২০১৩ সালে চীনে চালু হয় ‘ব্রডব্যান্ড চীন’ প্রকল্প, ২০১৫ সালে চালু হয় ‘ডিজিটাল চীন’ প্রকল্প। ২০১৮ সাল থেকে চীন ফাইভ-জি স্টেশন, বিগ ডেটা কেন্দ্র, এআই ও শিল্প ইন্টারনেটসহ নানা নতুন অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুততর করতে শুরু করে। ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘ডিজিটাল অর্থনীতি উন্নয়নের চতুর্থদশ পাঁচশালা পরিকল্পনা’ এবং একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চালু হয় ‘পূব থেকে পশ্চিমে কম্পিউটিং সম্পদ প্রেরণ’ প্রকল্প। গত ১০ বছরে চীনে অনেক ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানি গঠিত হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে চীন এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছেছে।

ভাষণের শেষভাগে প্রেসিডেন্ট সি জোর দিয়ে বলেন, তথ্য বিপ্লব সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইন্টারনেট সুন্দর ভবিষ্যতের ব্যাপারে মানুষের প্রত্যাশা বয়ে আনছে। হাতে হাত রেখে সাইবারজগতে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ এবং মানবজাতির সুন্দর ভবিষ্যত তৈরির জন্য চীন অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। 
সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ।