NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations
Logo
logo

সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ সমসাময়িক চীনের ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি


শুয়েই ফেই ফেই: প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ সমসাময়িক চীনের ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি

 


সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দেশ পরিচালনার একটি মৌলিক জাতীয় নীতি। এটি ১৯৭৮ সালে চীনের সাবেক নেতা তেং সিয়াও পিং-এর সভাপতিত্বে একাদশ সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে শুরু হয়েছিল এবং ২০১৩ সালে সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে অষ্টাদশ সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এটি সম্পূর্ণরূপে গভীর হয়েছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশ কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের প্রাক্কালে, নতুন যুগে চীনের সংস্কার নীতির ব্যাখ্যা চলতে থাকবে।

আজকের গল্পটি শুরু হয়েছিল ১২ বছর আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেস দিয়ে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে, অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সি চিন পিং নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি শেনজেনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। শহরটি "সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের জন্য চীনের জানালা" নামে পরিচিত: সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ সমসাময়িক চীনের ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি। সিপিসি’র দেশ পরিচালনার কৌশলের জন্যও এটি একটি গৌরবময় সিদ্ধান্ত।

সেই থেকে, সি চিন পিং-কেন্দ্রিক চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যাপকভাবে সংস্কারকে গভীরতর করার জন্য একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে, এতে সামগ্রিক লক্ষ্য, কৌশলগত অগ্রাধিকার, প্রচার পদ্ধতি এবং সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। 

দশ বছর পর ২০২২ সালে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশ জাতীয় কংগ্রেস চীনের বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের লক্ষ্য, প্রয়োজনীয়তা ও বৈশিষ্ট্যগুলো প্রস্তাব করে। সি চিন পিং বলেন, ‘চীনের বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকীকরণ একটি অভূতপূর্ব ও মহান কাজ। শুধুমাত্র মূল উদ্দেশ্য মনে পোষণ করলে আমরা পথ হারাবো না এবং ধ্বংসাত্মক ভুলগুলো এড়াতে পারব। শুধুমাত্র উদ্ভাবনের মাধ্যমেই আমরা যুগকে উপলব্ধি করতে পারব এবং যুগের নেতৃত্ব দিতে পারব।’

গত মে মাসে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন: সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ চীনের বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন সফল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি একটি শক্তিশালী সংকেত পাঠায়। তা হলো, ব্যাপক গভীর সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

দেশের শাসন ব্যবস্থায়, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বলা যেতে পারে। সি চিন পিং সরকার ও বাজারের মধ্যে সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করার মূল বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরেছেন, ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ক্রমাগত সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি করতে পেরেছেন।
দেশের শাসন ব্যবস্থায়, আইনের শাসনের নির্মাণ হল ভিত্তি এবং নিশ্চয়তা। গণতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থার সংস্কারের পরিপ্রেক্ষিতে, সি চিন পিং জোরালোভাবে ‘জনগণের গণতন্ত্রের’ পুরো প্রক্রিয়ার বিকাশ বাস্তবায়ন করেছেন, সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্রমাগত এগিয়ে নিয়েছেন, চীনের বৈশিষ্ট্যময় সমাজতন্ত্রের আইনি ব্যবস্থা ক্রমশ সুসংহত করে তুলছেন।

সংস্কৃতিও এক ধরনের উৎপাদন শক্তি এবং বহুমুখী জাতীয় শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার সংস্কারকে সি চিন পিং জাতীয় শাসন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্ব দেন, তিনি চীনের শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সৃজনশীল রূপান্তর এবং উদ্ভাবনী বিকাশ জোরদার করেছেন, চীনা জাতির আধুনিক সভ্যতা গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছেন এবং সি চিন পিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

জনগণের জীবিকার খাতের সংস্কারের বিষয়টি চীনা জনগণ গভীরভাবে অনুভব করে। অল্পবয়সী শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কাজের জন্য আয়ের নিশ্চয়তা, রোগের চিকিত্সা, বয়স্কদের জন্য সহায়তা, লোকজনের বাসস্থান এবং দুর্বলদের জন্য সহায়তা প্রতিটি চীনাকে সংস্কারের কল্যাণ এনে দিয়েছে।

পরিবেশগত নির্মাণের সংস্কারও জাতীয় শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ফলাফল সবার কাছে স্পষ্ট। উৎসে কঠোর প্রতিরোধের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াটির কঠোর ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর শাস্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবুজায়ন একটি সুন্দর চীন নির্মাণের জন্য স্বতন্ত্র পটভূমি দিয়েছে।

নতুন যুগে চীনের সংস্কার এবং উন্মুক্তকরণ যে পরিবর্তন এনেছে তা কেবল চীনেই নয়, তা আরও বেশি দেশের উন্নয়ন এবং জীবিকা ও কল্যাণের সঙ্গে জড়িত।
সূত্র: শুয়েই ফেই ফেই, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।