NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ১১, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে বাংলা বইমেলা: প্রবাসের ভাষা, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা লুৎফুর রহমানের পর নিউহাম কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেন শুভেন্দুকে দেখেই ‘জয় বাংলা’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তাল কালীঘাট The Obama Nuclear Deal: A Legacy of Hope and a Challenge for Trump and Netanyahu - Dr. Pamelia Riviere ঐতিহাসিক সিরাকিউস শহরে লায়ন্স ক্লাব ডিস্ট্রিক্ট-২০এ শাহ নেওয়াজ প্রথম ভাইস গভর্নর নির্বাচিত নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations
Logo
logo

চীন বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে


আন্তর্জাতিক : প্রকাশিত:  ১১ মে, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

চীন বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে

 

 

নতুন বছরে চীনের বিভিন্ন শিল্প ও মহল প্রাণবন্ত শক্তি দেখাচ্ছে। বর্তমানে চীনের বিভিন্ন জাহাজ কারখানা অনেক অর্ডার হাতে নিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে। উচ্চমানের জাহাজ উৎপাদন থেকে সবুজ বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতি পর্যন্ত, চীনের জাহাজ উৎপাদন শিল্প উদ্ভাবন ও উচ্চমানের উন্নয়ন দিয়ে স্থিতিশীলভাবে বিশ্বের শিল্প চেইনের শীর্ষে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাসের শুরুতে, বসন্ত উৎসব শেষ হবার আগেই, চীনের তা লিয়ান শহরের জাহাজ কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 

বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান উৎপাদন স্টোরেজ এবং অফলোডিং জাহাজটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ধারণ করতে পারে। এটি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং লোড এবং আনলোড উভয়ই করতে পারে, যা একটি বহুমুখী অফশোর তেল ও গ্যাস প্ল্যান্টের সমতুল্য। পৃথিবীতে এই ধরনের জাহাজ মাত্র দুটি। প্রথমটি দুই বছর আগে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং দ্বিতীয়টি এই বছরের জুনে সরবরাহ করা হবে এবং বর্তমানে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


এম৩৫০ ভাসমান উৎপাদন স্টোরেজ এবং অফলোডিং জাহাজের মালিক হলো এক্সনমোবিল এবং চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন তা লিয়ান শিপইয়ার্ড একটি সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে এটির নকশা এবং নির্মাণের দায়িত্ব পালন করছে। জাহাজটির মোট দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ৪.৬ লাখ টন। এটি বর্তমানে পানির নিচে ডিবাগিং পর্যায়ে রয়েছে। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য, প্রকল্পটি তিন-শিফট ব্যবস্থা চালু করেছে এবং প্রকল্পের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়কালে সারারাত কাজ চলেছে।


এ প্রকল্পে শুধু বিপুল সংখ্যক কর্মী জড়িত নয়, এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণও জাহাজ শিল্পে সর্বোচ্চ। জাহাজটিতে প্রায় ৩৬ হাজারটি পাইপ রয়েছে, যার ওজন ৪ হাজার টনেরও বেশি এবং আবরণের ক্ষেত্রফল প্রায় ৯ লাখ বর্গমিটার। নির্মাণ সামগ্রীর পরিমাণ একটি অতি-বৃহৎ তেল ট্যাঙ্কারের চেয়ে তিনগুণ বেশি।


হাজার হাজার শ্রমিক প্রচণ্ড রোদের নীচে প্রচুর ঘাম ঝরিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে গেছে, যা সমসাময়িক নির্মাতাদের বুদ্ধিমত্তা ও কঠোর পরিশ্রমের ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন। 


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে, চীনের তিনটি প্রধান জাহাজ নির্মাণ শিল্প সূচক: জাহাজ নির্মাণ সমাপ্তির পরিমাণ, নতুন অর্ডার প্রাপ্তি এবং অর্ডারের ব্যাকলগ বিশ্বের মোটের যথাক্রমে ৫৫.৭%, ৭৪.১% এবং ৬৩.১%, যা টানা ১৫ বছর ধরে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। বিশ্বের ১৮ ধরনের প্রধান জাহাজের মধ্যে, ১৪টি ধরণের নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে চীন বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে।

ঠিক যখন তা লিয়ান শহরের নির্মাতারা সময়সূচি অনুসারে জাহাজটি সরবরাহের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই চীনের দ্বিতীয় স্থানীয়ভাবে নির্মিত বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ, অ্যাডোরা ফ্লোরা সিটি, শাংহাইতেও নিবিড়ভাবে নির্মিত হচ্ছিল। বসন্ত উৎসবের আগেই জাহাজের মূল কাঠামো এবং চেহারা রূপ লাভ করেছিল। বর্তমানে, কাজের কেন্দ্রবিন্দু সরঞ্জাম স্থাপন, কমিশনিং এবং অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজ চলছে। নির্মাণ শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং পরিকল্পনা অনুসারে, এই বছরের মে মাসে প্রথমবারের মত ভাসমান জাহাজের হাল তৈরি করা হবে, ২০২৬ সালের শেষে জাহাজটি সরবরাহ করা হবে এবং সমুদ্রযাত্রা শুরু করবে।


যদি বলি, চীনের অ্যাডোরা ম্যাজিক সিটি ক্রুজ জাহাজ দেশীয় বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ শিল্পে একটি অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাহলে অ্যাডোরা ফ্লোরা সিটি জাহাজ তার একটি আপগ্রেড ভার্সন। এটি আরও বড় এবং আরও আরামদায়ক হবে- প্রথমত, জাহাজের হাল আরও বড় হবে, মোট টনেজ ৬ হাজার ৪০০ টন বৃদ্ধি পেয়ে ১.৪ লাখ টন হয়েছে; মোট দৈর্ঘ্য ১৭.৪ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪১ মিটার হয়েছে; উপাদান বিনিয়োগও বিশাল, শুধুমাত্র তারের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। কেবল আকারই বৃদ্ধি করা হয়নি, বরং কেবিনের নকশা এবং বিন্যাসও অপ্টিমাইজ করা হয়েছে, যা যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়িয়েছে।

এ দুটি ক্রুজ জাহাজের আপগ্রেডেশন চীনের বৃহৎ ক্রুজ জাহাজ শিল্পের শক্তি প্রদর্শন করে। ভবিষ্যতে, নির্মাতারা বহরের আকার সম্প্রসারণ, যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এবং বিশ্বজুড়ে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বৃহৎ ক্রুজ জাহাজের প্রভাব সম্প্রসারণের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবেন। ‘চীনের জাহাজ নির্মাণ’ অনেক অসুবিধা অতিক্রম করেছে এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের বিশাল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র:শুয়েই-হাশিম-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।